The platform explained In Bangla | Movie Review The platform 2019

The platform explained In Bangla

The platform explained In Bangla  Review

Movie: El Hoyo(Spanish)/ The Platform (English Dubbed)
Language: Spanish(Original)/ English(Dubbed)
Release Year: 2019
Director: Galder Gaztelu-Urrutia👤
Screenplay: Iván Massagué, Antonia San Juan, Zorion Eguileor, Emilio Buale, Alexandra Masangkay.👥
Genre: Sci-Fi, Thriller (IMDB)
Distributed By: Netflix
IMDB Rating: 7/10

রিভিউঃ
★আমাদের সমাজব্যাবস্থা তিনভাগে বিভক্ত★
1/উচ্চস্তর
2/নিম্নস্তর
3/মধ্যস্তর
★এই স্তরটা পরিমাপ করা হয় মানুষের অর্থাদির উপর, সোজাসাপটায় বলতে গেলে সমাজের বাস্তব ভয়াবহতার চিত্রটাই উচ্চস্তর, নিম্নস্তর আর মধ্যস্তরের প্রকৃত রুপ, উচ্চস্তরের মানুষগুলো নিম্নস্তরের মানুষদের মানুষই মনে করে না, যাদেরকে "ছোটলোক" শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা হয়, উচ্চস্তরের মানুষগুলো আগে নিজেরাই নিজেদের ইচ্ছামত লুটেপুটে খায়, আর নিম্নস্তরের মানুষগুলো পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে একজন আরেকজনকে খায়, আর মধ্যস্তরের যারা আছে তারা না করে উপরের চিন্তা না করে নিচের চিন্তা, উপরস্তরের মানুষদের উচ্ছিষ্ট খেয়েই জীবন অতিবাহিত করছে তারা, কিন্তু ভাবুন তো, যদি এমন হতো, আপনি আপনার ইচ্ছা নয় প্রয়োজন মত খেতে পারবেন এবং পরে খাওয়ার জন্য খাবার স্টক করতে পারবেন না, যদি এমন হতো তাহলে সমাজের নিম্নস্তরের মানুষগুলো ক্ষুদার জ্বালায় আত্মহত্যা করতো না.
যেখানে হরিণ থাকে সেখানে বাঘও থাকে, যখন যখন পৃথিবীতে বাতিল গা নাড়া দিয়ে উঠেছে তখন তখন পৃথিবীতে হক্বের আবির্ভাব ঘটেছে, এই ভ্রান্ত সমাজরীতিকে ভাংতে যুগে যুগে অনেক মনিষীরা প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, দিয়েছেন নিজেদের জীবন বিসর্জন এই ভ্রান্ত সমাজব্যবস্থাকে ভাংতে

আমাদের সমাজের দিকে ফিরে তাকান তো একবার। একই সমাজে বাস করা মানুষের মধ্যে কারো দেখবেন অর্থনৈতিক ভাবে একদম ফুলে ফেঁপে উঠেছে, আর অন্যদিকে দেখবেন কেউ না খেয়েই মারা যাচ্ছে। সেজন্য মুভির একটা ডায়লগ ছিলো এমন বুঝিয়েছে যে সমাজে কেউ একদম উপরের তলায় থাকে, কেউ থাকে নীচের তলায়। আর কেউ ঝড়ে পড়ে টিকতে না পেরে। El Hoyo/ The Platform মুভির মূল বিষয়বস্তুই ছিলো সামাজিক বৈষম্য। সহজভাবে বলতে গেলে সমাজের উঁচু নীচু স্তর, কেউ বেশি পাচ্ছে কেউ কিছুই পাচ্ছে না এই বিষয়বস্তুকে লক্ষ্য করেই এই মুভির তৈরি।
স্প্যানিশ শব্দ HOYO মানে গর্ত বা সুড়ঙ্গ অনেকটা ইংরেজিতে Loop এর সাথেও তুলনা করতে পারেন। মুভির শুরুতেই দেখবেন অসাধারণ সব শেফকে দিয়ে অসাধারণ সব রেসিপি তৈরি করা হচ্ছে। যেসব রেসিপি নিচের দিকে তৈরি হওয়া একটা গর্ত বা সুড়ঙ্গে একটা প্লাটফর্মের মাধ্যমে পাঠানো হবে। যে সুড়ঙ্গের বা গর্তের প্রতিটি ফ্লোরে দুইজন করে থাকতে পারে। প্রতিজন এই সুড়ঙ্গে ৬ মাস করে থেকে একটা ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করার সুযোগ পাই। Goreng নামের একজন চরিত্র এই মুভিতে বলা যায় প্রোটাগনিষ্ট/নায়ক/মসীহার ভূমিকা পালন করে।

Goreng ৬ মাসের এক ডিপ্লোমা ডিগ্রীর জন্য এই Hole এ আসে। এই Hole এর নিয়মানুযায়ী একজন ব্যক্তি একটি ফ্লোরে একমাস করে থাকতে পারে। প্রতিমাসে তার ফ্লোর পরিবর্তন। কখনো উপরের দিকে ৬ নাম্বার ফ্লোরে, কখনো বা ৬৬ নাম্বার ফ্লোরে, আবার কখনো ২৫৬ নাম্বার ফ্লোরে। এখন উল্লেখ করার বিষয় এই যে পর্যায়ক্রমে ফ্লোরের/লেভেলের বিন্যাস, সেখানে সুস্বাদু সব রেসিপির যে প্লাটফর্ম, তা একদম ০ লেভেল থেকে নীচের লেভেল/ফ্লোর গুলোর দিকে প্রতিদিন শুধুমাত্র একবার যাতায়াত করে। অর্থাৎ একই ফ্লোরের দুইজন ব্যক্তি দিনে শুধু একবারই খাবার গ্রহণ করতে পারে। দেখা যায় প্রতিদিন খাবারের প্লাটফর্ম যতই ০ (শূণ্য) লেভেল থেকে এর পর্যায়ক্রমে ১,২,৩...…. লেভেলের দিকে (নীচের দিকে) যেতে থাকে উপরের লেভেলে যারা ছিলো তারা সমস্ত খাবার খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এভাবে মোটামুটি ০ থেকে ৫০ লেভেল পর্যন্ত মানুষগুলো খেতে পারে। কিন্তু এর পরের ফ্লোরের মানুষগুলোর জন্য অবশিষ্ট কিছুই থাকে না। যার কারণে নীচের লেভেলের মানুষ না খেয়ে কাটাই, কেউ না খেয়ে মারা যাচ্ছে। কেউ তার ফ্লোরের অন্য জনকে মেরে তার মাংস খেতেও দ্বিধা করছে না।
আসলে এটাই মুভির প্রধান থিম। এই যে উপরের লেভেলের মানুষের খাবার খেয়ে সাবাড় করে দেওয়া; নীচের লেভেলের কারো কোন খাবার না পাওয়া এটা দিয়ে আমাদের সমাজে বিদ্যমান সমস্ত বৈষম্যকে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সমাজের উঁচু লেভেলে সবাই সব পাচ্ছে, আর আপনি কিছুই পাচ্ছেন না, এই বিষয়টাকে খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক বৈষম্যকে খুব দারুণ একটা প্লট দিয়ে বুঝানো হয়েছে। Goreng এই মুভিতে একজন প্রোটাগনিষ্ট চরিত্র। সে বুঝতে পেরেছে সব লেভেল বা ফ্লোরে যদি সবাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার গ্রহণ করে তাহলে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সব ফ্লোর/লেভেলে প্রতিটা মানুষ না খেয়ে থাকবে না। এবং Goreng সেই জন্য স্টেপও গ্রহণ করে।
আসলে এই মুভি নিয়ে স্পয়লার প্রকাশ করে দেওয়ার মত কিছুই নেই। কেননা এই মুভিতে পরতে পরতে টুইষ্ট জিনিসটা নেই। নেই কোম টানটান উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার মতো মুহুর্ত। কিন্তু আপনি যদি আসলেই ভালো মুভির প্রেমিক হন তাহলে নিতান্তই রোমাঞ্চকর কাহিনী দেখার আশায় নয়, একজন ভালো মুভির বা ভালো প্লটের মুভির দর্শক হয়েই মুভিটা দেখবেন।

আমি কেনো ১০ এ ৯.৫ দিয়েছি সেটা আমি একটু খোলাসা করতে চাই। আসলে পুরো মুভিটাই আমার ভালো লেগেছে। পার্সোনালি আমি ১০ এ ১০ দিতে চাই। কেননা মুভির প্লট, স্ক্রিনপ্লে, স্টোরি, সেট, অভিনয়, কস্টিউম সব কিছুই খাপে খাপ। কিন্তু যে জিনিসটা Confusing লেগেছে সেটা হচ্ছে এই মুভির শেষ দৃশ্য। আসলে পরিচালক কি বুঝাতে চেয়েছে সেটা বুঝতে আমার যথেষ্ট সময় লেগেছে। আমার মনে হয়েছে Ending টা আরো সহজ ভাবে পরিচালক/কাহিণী লেখক সমাধা করে দিতে পারতেন। এর জন্যই রেটিং টা ০.৫ কম দিয়েছি। আর একটা বিষয় এই মুভির যতটুকু না সাইফাই বা থ্রিলার বলা হয়েছে জনরা তে তার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব আলোকে তৈরি করা হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال